Posts

Showing posts with the label কবিতা

তাহার কথা

Image
ললাট যেনো তার তেপান্তরের মাঠ এলো কেশ নয় যেনো ঝর্নার বেশ! চঞ্চল আঁখি যে তাহার অতল দীঘি হাসির নাহর মনে করায় রুদ্র সাগর! অদ্বিতীয়া থেকো অমলিন, চিরদিন শেষ রাতে রেখো জাগিয়ে, প্রতিদিন।

এত দুঃখ কোথায় রাখে?

Image
লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে সটকে পরা তারার মতন নি:স্বঙ্গ পরিব্রাজকেরা কোথায় পায় বলো যতন ? যার নেই কোন পরিবার কিংবা বাঁধা সংসার যে পায়নি অন্তরঙ্গ মিষ্টি আদর তার প্রেমিকার ; অথবা যার সবই ছিলো হারায়ে ফেলেছে আজ সময়ে ভাঙ্গনে হলো কতটা ভারী তার দীর্ঘশ্বাস! কারে কয় আপন মানুষ অসময়ে যে গেছে ভুলে দাড় বেয়ে জীবনের তরী নিয়ে যাবে কোন কূলে? সাঁঝের বেলা পাখিরাও তো ঘুরে-ফিরে যায় নীড়ে কত অভাগারা হারায়েছে ঘর ব্যস্ত পৃথিবীর ভীরে। মধ্যবিত্ত সুখে থেকে চমকে উঠে মন তাদের ভেবে শূন্যময় জীবনে সে মানুষ এত দুঃখ কোথায় রাখে? জেনো পথহারা মানুষেরাই বেঁচে থাকার অনুপ্রেরনা বাঁচার লোভে থাকুক চিরকাল অপ্রাপ্তি-অসুখ-তৃষ্ণা। (নেলসন মেন্ডেলা ও জীবন দর্শনের প্রতি উৎসর্গ) ০৪/০৩/১৮ খ্রীঃ নোমান প্রধান 

ভাঙা শরীরে আনকোরা মন

Image
অমূলক আজ আনকোরা শরীরের খোঁজ, ভাঙা মন জমে জমেই পাহাড় হচ্ছে রোজ সেখবর না নিয়ে কেবল দেহ হাতড়ে বেড়াও কামশেষ হতেই প্রেয়সীকে ব্যতিব্যস্ত তাড়াও মৃত শরীর তবুও তো লাগে শকুনের কাজে মর্গে কাটাঁছেঁড়া ডোমের চাকরি টিকে গেছে মহৎপ্রাণ কেহবা করে মরণোত্তর চক্ষু দান বাতিলের খাতায় প্রেমে যে সঁপে মনোপ্রাণ। সে জন সেই মন আর বাসতে পারেনা ভালো ডুবে আধারে দেখে যেনো সব নিকষ কালো প্রতারিত হওয়ার চেয়ে বরং প্রত্যাখ্যাত উত্তম ভাঙা শরীরের ভেতর খুঁজি আনকোরা মন।

কতটা লম্পট!

Image
রমণীদের ডাকে সাড়া দেই না পাছে জড়িয়ে পড়ি মিথ্যে সম্পর্কে যা কিনা কেবল শারীরিক ভাবেই নয়, প্রকাশ করে ফেলে আমার নগ্ন চেহারাখানি প্রবল চেষ্টায় যা ঢেকে রাখি আমি ভণ্ডামি আর ভদ্রতার মুখোশাড়ালে। সম্ভবত স্বীকার করিনা সমাজে কখনোই, কতটা লম্পট আমার কামরূপে আর সবার মতই ভিতরে ভিজে উঠে আমার জিভ! সবই তো থাকে লুকিয়ে আমার চামড়া আবৃত্ত শরীরে নোংরাপানি তোলে ঢেউ বিপরীতধর্মী লোভে অথচ সেই চেহারা অভিনয়ে কত প্রচেষ্টাতে লুকিয়ে রাখি চলতি সমাজে। আর লম্পট রূপ ঢেকে রেখে সহজেই মিশে যাই তোমাদের চুতিয়া নগরে। কে কেমন তার জুড়ি অভিনয়ে অন্তরে আমি কেমন কার সাহস যে খু্ঁজবে বলবে সহসাই গলা উচু করে যে আমি তাদেরই মত লুকিয়ে আছি ভিড়ে নিজের স্বরূপ রেখেছি ঢেকে। কারও নেই সেই দুঃসাহস নিজেকে নগ্ন করে।

আটই ফাল্গুন

Image
আটই ফাল্গুন, শুনি যেন বাংলার ভাষা বিপ্লবীদের গুনগুন যারা পেট্রোল নয় রক্ত ঢেলে জ্বালছে আগুন। চেয়ে দেখো নিশ্চুপ আজো জ্বলছে সে শিখা দেখো, মোদের রন্ধ্রে-স্কন্ধে-কন্ঠে আছে আকাঁ। হায় বাঙালী! কোথা হারালে মুক্তির সেই স্বাধ ফুলের মিছিলে কেন শুনি শহীদদের আর্তনাদ। ধরো ভিনদের বেশভূষা স্বদেশী লুঙ্গীতে লজ্জা চিত্তে হয়ে বাঙালি সাজিয়ো শহীদ মিনারের সজ্জা। জেগে উঠতে না যেনো হয়ে যায় খুব দেরী তোলো গান মেলে প্রাণ আজকে প্রভাতফেরী।

পুরুষের নারী

Image
নিরেট স্বার্থপর হয় আর.ডি বর্মনের রুবি রায় আর অঞ্জন দত্তের বেলা বোসেরা, কেবল চাহনিতেই নয় তাদের স্পর্শ, আলিঙ্গন কিংবা চুম্বনেও  থাকে তীব্রতর ইশারা। যোগ্যতার দলিল ছাড়া কোন নারীই নয় তোমার একান্ত অথচ পঁয়ত্রিশ লক্ষ বছরে তাদের তরে চেনা পৃথিবীর সব প্রান্ত! পুরুষের বাহুর পুরুত্বের কারণ কেবল পুরুষত্ব ভেবো না কম খাটেনি এদেহ সৃষ্টির কাল থেকে দিতে নারীকে নিরাপত্তা। অথচ একবিংশ শতাব্দীতে নরওয়ে থেকে এ্যলাস্কা পর্যন্ত কোন শর্বরী তা মানতেই চায় না।

আইনের ধর্ষণ

Image
জীবনের দুর্গম পথে প্রেমে সংলাপ? নিতান্ত অপ্রয়োজনীয়, বড়ই অর্বাচীন তারচেয়ে চলো নব বিপ্লবের কথা বলি সুখ না খুজে মুখে মুখে বিলায়ে দি হাসি। দু'বেলা দু'মুঠো অন্নের জন্যে বিলাপ? শুনতে পাবে না যদিও মাঠে ভরে উঠেছে আজ, ফসলের বদলে কারখানায় সয়লাব গেরস্ত ছেড়ে শিক্ষিত করে চাকরিতে লাভ। কি শুনতে চায় তোমার জোড়া কান? জানো আজ পত্রিকা খুলে কি পড়লাম? ধর্ষিত হয়েছে কিশোরী মেয়ে মজদুরের আসামী জামিনে মুক্ত, আইন এদেশের।

নারী

Image
আমি স্রষ্টার হাতে লিখা কবিতা, দুঃখ দিবে আমায়? কে তুমি! কতই বা তোমার স্পর্ধা  মহাবিশ্ব তাঁহার তুলিতে আঁকা। তুমি কি সেই? যে করেছে যাপিত জীবনরে বাঁকা? নওতো তুমিই সেই বৃন্দাবনের বৃন্দাবাসীনী? শ্যামের হাতের খুনে সেই বাঁশরী যার তরে রাগে রাগে হতো উন্মাদ! তবে কি রাধা গো তুমি? সখীগনের স্বপন যে করেছিলো বরবাদ।  ওঁ চিনেছি! না না তুমি নওকো অবলা হলে তবে মাতৃত্বের ভার কভু নিতে না। তুমি জন্মের কারণ করো হাজার রূপ ধারন হয়েছো পাপ কিংবা পুণ্যের ফারাক। নারী তুমি; কাঙ্ক্ষিত এক অবোধ্য সামাজিক বারণ।

মানুষ নাকি মানব

Image
বসন্ত বিদায়ের পর, সূর্যের রাগে এক আকাশ গলা দুপুর বেচারা এক দিন মজুর চা-দোকানে ঢুকলো হয়ত তৃষ্ণায় কাতর তায় ছুটে গিয়ে করে কলস থেকে পানি পান দেখেনি বেচারা সেখানেই ঠায় ছিলো এক ...

বিটপী

Image
পথ হেটে যাওয়া ক্লান্ত পথিক হয়ত বড় একটা নেই সবাই হরেক রকম শকটে চড়ে , নেই আর মানুষের দল বেধে এগুনো কাফেলা সেই হজ্জের পথে যাওয়া যায় উড়ে । গায়ের হাট বসতো প্রাচীন আর বিশাল বটের মূলে সেই বাজার গেছে দালানে সেটে , নগরায়নের স্রোতে মজে কেমন যাচ্ছি সেসব ভুলে আধুনিকতা ধরেছে দারুণ এটে । তায় বলে কি প্রেমিকাদের মত করবি ঋণের অস্বীকার , কি বুঝে হায় চেঙ্গিসের মতো কাটিস বিটপী নির্বিকার !  দমে দমে তোর প্রয়োজনে বৃক্ষ নিজেরে বিলিয়ে দেয় পথিক - কাফেলারে দিত ছায়া , মিটিয়ে ক্ষুধা দিয়ে আবাস - বস্ত্র - ঔষদের না দাম নেয় তবে কেন বিটপী পাবেনা মায়া ।  

না-মানুষ

Image
আমি প্রচন্ড ক্লান্ত হয়ে এখন হেঁটে বেড়াচ্ছি, স্ব-চোকাঠ মাড়িয়ে খানিক অগ্রসর হয়েছি চতুর্দিকে! ভুল হবেনা যদিবা বলি দশদিকে। চেনা শহর জানা মানুষের সামাজিক সংসার, যেন নড়তে ভুলে গিয়ে করছে সূর্যের আচার না-মানুষ! বৃক্ষের মত মস্তিকহীন বাঁচা শিখে তায় ফাঁকি দিতে বাধ্য হয়ে ত্যাগ করেছি ঘর মেনে নিয়েছি অযাচিত জীবনে বৈশাখী ঝড়; পানিতে ডুবে নিঃশ্বাস টানাই আজ খুব শ্রেয়! এ মানচিত্রে মানুষরূপী সব, নাই জীবন্ত কেহ হাপিঁয়ে উঠেছি বলেই ছুটে চলেছি সজোরে, ভাঙা স্বপ্ন টুকরোর খুঁচা লাগছে খুব পাঁজরে পরাজিত হতে হবে মনে বেধেছি দৃঢ় সংকল্প। এ ভবে যখন শতকোটি মুখ ক্ষুধায় শুকিয়ে, আরেক মানুষ কেমনে রোলস রয়েলসে চড়ে অন্য কোন গ্রহে গিয়ে বলবো আজব এ গল্প। জানতে হবে আর কোন প্রাণী ভরপেটে খায় শত প্রাচুর্য ধন ঐশ্বর্যে থেকেও দু'পয়সা চায়; আছে কি এমন বাঁচা কেবলই মৃত্যর কারণে! দেহমন সব সপেঁ দিবে ছাপা নোটের তাড়নে চাঁদের বুড়ি হাসে মুখ টিপে শুনে মনুষ্য কান্ড শুনে নাই সে হাজার বছরে আছে এমন ভন্ড হায় তবু কভু মোর হৃদ না-মানুষের গান গায়, কেমনে জানিনা ওদের ঔরসে মানুষ জন্মায় কারো চোখ ফুটেই গর্জন, পিতার বিরোধীতা। সভ্য সম...

উনুন

অলস দিনটায় আজ কত শ্রাবনের উপহার স্মৃতির পাহাড় যেনো সামনে দাঁড়ায় তাহার! আখড়ায় বেজে ওঠে ঢোল-বাশিঁ-একতারা ষোড়শীর মনে রঙ ঢেলে করল মাতোয়ারা। কবিয়াল তার কাগজে তোলে শব্দ ঝংকার আসমান কাঁপায় মাতাল মেঘেদের হুংকার। মেঠো পথে খুব সাবধানে পা ফেলছে বুড়ি অচিন গায়ে বাজে রিনঝিন নব বধূর চুড়ি। পাঠশালায় আজি খুব একা মাস্টার মশায় ছেলের দল পালাচ্ছে কাক ভেজার নেশায়। শত অনুভূতি নগ্ন চোখে লাগে নিষ্প্রয়োজন দিন-মজুরের উনুনে নেই ভাতের আয়োজন।